Home / প্রযুক্তি / কম্পিউটার / ল্যাপটপ পানি দিয়ে পরিষ্কার করা কি ঠিক?

ল্যাপটপ পানি দিয়ে পরিষ্কার করা কি ঠিক?

বর্তমান সময়ে ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ল্যাপটপ পরিষ্কার করা নিয়ে বেশ বিপত্তিতে পড়তে হয়। অনেকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে স্ক্রীণ পরিষ্কার করেন না। আবার অনেকে মুছতে গিয়ে এমন জোরে চাপ দেন যে স্ক্রীণ নষ্ট করে ফেলেন। অনেকে পানি ব্যবহার করেন, অনেকে স্ক্রীণ ক্লিনার ব্যবহার করেন। আবার অনেকে শুধু কাপড় দিয়ে ল্যাপটপ পরিষ্কার বা মুছে থাকেন। ল্যাপটপ পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যায় কি না এ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। ল্যাপটপ পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে তবে কতকগুলো শর্ত ও নিয়ম আছে।

পানি ব্যবহার করে পরিষ্কার করার নিয়ম:
ল্যাপটপ পানি ব্যবহার করেও পরিষ্কার করা যায়। তবে যে পানি ব্যবহার করে মুছবেন তা যেন স্বচ্ছ বা ভালো হয়। ময়লাযুক্ত কিংবা আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করা চলবে না। কারণ এই পানি দিয়ে পরিষ্কার করার পর স্ক্রীণে নতুন করে ময়লার দাগ দেখা দিতে পারে। ল্যাপটপ পরিষ্কারে  বেশি পানি ব্যবহার করা যাবে না। পানি যেন গড়িয়ে নিচে না পড়ে। এছাড়া যে কাপড় দিয়ে মুছবেন তা যেন পরিষ্কার ও সুতি কাপড় হয়। চিটচিটে, তেলযুক্ত ময়লা যদি স্ক্রীণে থাকে তবে তা পানি দিয়ে পরিষ্কার করা উচিৎ নয়। নিম্নে পানি দিয়ে ল্যাপটপ পরিষ্কারের নিয়ম দেওয়া হলোঃ

১. ল্যাপটপ বন্ধ করুন এবং এর পাওয়ার ক্যাবল বিচ্ছিন্ন করুন।
২. প্রথমে সুক্ষ্ম, হালকা ব্রাশ দিয়ে (পানি ছাড়া) আলতোভাবে স্ত্রীণ ও কী বোর্ডে ময়লা পরিষ্কার করুন। এক্ষেত্রে শিল্পিদের রংতুলি কিংবা মেকাপের ব্রাশ ভালো কাজে দেয়।
৩. এক টুকরা সুতি পরিষ্কার কাপড় সাধারণ পরিষ্কার পানিতে (গরম বা ঠান্ডা নয়) ভিজিয়ে ভালোভাবে চিপে নিন। যেন কোনো পানি না থাকে বা ফোটা ফোটা বা চুইয়ে পানি না পড়ে। আবার হাতের পানি যেন নিচে না পড়ে। লক্ষ্য রাখবেন, হাতের নখের চাপ বা আঁচড় যেন স্ক্রীণে না পড়ে।
৪. কাপড়টি আলতোভাবে/হালকাভাবে চাপ দিয়ে আস্তে আস্তে মুছে নিন। কিছু পর পর পানিতে ভিজিয়ে তা আবার করুন। মনে রাখবেন পানি যেন স্ক্রীণে গড়িয়ে না পড়ে এবং স্ক্রীণে বেশি চাপ না পড়ে। স্ক্রীণে বেশি চাপ পড়লে স্ক্রীণের লিকুইড ছড়িয়ে কালো স্পট হতে পারে কিংবা চাপের কারণে সাদা স্পট পড়তে পারে। তাই সাবধানে চাপ দিতে হবে।
৫. যে কোনো এক ডাইরেকশন বা দিক দিয়ে পরিষ্কার করুন। ডান থেকে বাম কিংবা বাম থেকে ডান যে কোনো এক দিক মেনে পরিষ্কার করুন। এলোমেলোভাবে পরিষ্কার করবেন না। এভাবে সমস্ত ল্যাপটপ পরিষ্কার করুন। পানি দিয়ে পরিষ্কারের পর একটি পরিষ্কার সুষ্ক সুতি কাপড় দিয়ে তা আবার মিুছে নিন।

৬. যেহেতু এলসিডি/এলইডি স্ক্রীণ সেনসেটিভ সেহেতু ঘনঘন স্ক্রীন পরিষ্কার করা উচিৎ নয় বরং বেশি ময়লা পড়েছে বলে মনে হলে তবেই তা পরিষ্কার করুন।
৭. ফ্যানের নিচে ল্যাপটপ পরিষ্কার করুন যাতে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। পরিষ্কার করার আধাঘন্টা পর  কিংবা শুকিয়ে গেছে মনে হলে ল্যাপটপ চালু করুন।

সতর্কতা:
১. ল্যাপটপে সরাসরি পানি স্প্রে করবেন না।
২. শক্ত, মোটা ও ময়লাযুক্ত কাপড় কিংবা ব্রাশ ব্যবহার করবেন না।
৩. ময়লাযুক্ত কিংবা আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করবেন না।
৪. পানি যেন গড়িয়ে না পড়ে।
৫. ল্যাপটপ চালু রেখে পরিষ্কার করবেন না।
৬. হাতের নখ যেন বড় না থাকে।
৭. চিটচিটে ও তেলযুক্ত ময়লা স্ক্রীণে থাকলে তা পানি দিয়ে পরিষ্কার করবেন না।
৮. খুব বেশি জোরে চাপ দিয়ে পরিষ্কার করবেন না।

জেনে রাখা ভালো-অনেক ল্যাপটপে চাপ পড়ে বা ল্যাপটপ ফোল্ড ও আনফোল্ড করার ফলে কী বোর্ডের দাগ স্ক্রীণে লেগে যায়। যা ল্যাপটপ কেনার পর প্রথম দিকে বুঝা যায় না কিন্তু অনেক দিন পর তা স্ক্রীণে বুঝা যায়। এই দাগ সহজে যাই না। তাই এক্ষেত্রে ল্যাপটপ কেনার প্রথম দিকে স্ক্রীণ প্রটেক্টর লাগনো ভালো। খুব স্বচ্ছ স্ক্রীণ প্রোটেক্টর কিনতে পাওয়া যায়। ল্যাপটপের স্ক্রীণে তা লাগানো যেতে পারে। ফলে মূল স্ক্রীণ ভালো থাকে। এটি পরিষ্কারের নিয়ম একই। স্ক্রীণ প্রটেক্টর না লাগাতে চাইলে একটি হালকা ও সুক্ষ্ম কাপড় কী বোর্ডের উপর দিয়ে রাখা ভালো। ফলে ফোল্ড-আনফোল্ড করলে স্ক্রীণে কী বোর্ডের দাগ পড়বে না। স্ক্রীণের ময়লার চেয়ে ল্যাপটপের বড় শত্রু হচ্ছে চাপ ও তাপ, ঝাঁকুনি। তাই এগুলো থেকে ল্যাপটপকে দূরে রাখুন।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*