Home / প্রযুক্তি / ইন্টারনেট / ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বৃদ্ধির উপায়

ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বৃদ্ধির উপায়

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও সহজ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক। ছোট, বড় সকলেই ব্যবহার করে। কিন্তু কিছু ব্যক্তি বিশেষের শত্রুতা, অতি কৌতুহলি ও বিকৃতসম্পন্ন মানসিকতা, মানুষকে বিপদে ও বিড়ম্বনায় ফেলার হীন মানসিকতা থেকে সম্প্রতি ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানাবিধ সমস্যা ও বিড়ম্বনায় পড়ছে। সম্প্রতি ফেসবুক এ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া এবং সেই এ্যাকাউন্টে অশ্লীল ছবি, ভিডিও অপলোডের ঘটনা অনেক বেড়ে চলছে। আমরা যারা ফেসবুক ব্যবহার করি তাদের অনেকে ফেসবুকে ব্যবহার করে যে অপরাধ করা যায় কিংবা কাউকে বিপদে বা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা যায় তা অনেকে জানেন না। আবার কিভাবে ফেসবুক এ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা যায় ও গোপনীয়তা রক্ষা করা যায় তা অনেকে জানেন না। ফলে এ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তা জেনে রাখা প্রয়োজন কিভাবে ফেসবুকের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বৃদ্ধি করা যায়।

১. নূন্যতম ১০ সংখ্যার পাসওয়ার্ড দিন। পাসওয়ার্ডে ছোট ও বড় হাতের বর্ণ, সংখ্যা, সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করুন। জন্ম তারিখ, সাল, প্রিয়জনের নাম, ১ থেকে ৮ ক্রম সংখ্যা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
২. আপনার প্রোফাইল এবং টাইমলাইন পাবলিক করবেন না।
৩. আপনার লিস্টে থাকা সবাই কিন্তু বন্ধু নয়। কেউ শিক্ষক, কেউ আত্নীয়, কেউ কাছের বন্ধু, কেউ বা দূরের। অনেকে আবার অপরিচিত। তাই আপনার লিস্টে থাকা সবাইকে বন্ধু, আত্নীয় স্বজন ইত্যাদি ভাগে শ্রেণীবিভাগ করুন।
৪. অপরিচিত কোনো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করবেন না।
৫. কোনো পোস্ট যখন প্রকাশ বা পাবলিস করবেন তখন তা পাবলিক করা থেকে বিরত থাকুন।
৬. ফেসবুকে প্রদত্ত বিজ্ঞাপনে লাইক দিবেন না।
৭. আপনাকে যেন কোনো বন্ধু ট্যাগ করতে না পারে সেই অপশনটি বন্ধ করে রাখুন। যদি ট্যাগ অপশন রাখতে চান তবে ট্যাগকৃত বিষয়টি যেন আপনাকে আগে দেখায় এমন অপশনটি নির্বাচন করুন।
৮. আপনার প্রোফাইলটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখবেন না।
৯. আপনার টাইম লাইনে যেন অন্য কেউ পোস্ট করতে না পারে তা বন্ধ করে রাখুন।
১০. আপনার ফ্রেন্ড লিস্ট যেন কেউ দেখতে না পারে তা বন্ধ করে রাখুন।
১১. আপনি অন্য কোনো স্থানে বা কম্পিউটারে ফেসবুক ব্যবহার করলে তা ভালোভাবে সাইন আউট করবেন।
১২. ফেসবুক সিকিউরিটি বৃদ্ধির জন্য মোবাইল নম্বর ২ স্তর নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করুন। সিকিউরিটি কোড আপনি মোবাইলে পাওয়ার পর তা দিয়ে ফেসবুক ওপেন করুন। মাঝে মধ্যে যদি বিভিন্ন কম্পিউটারে ফেসবুক ব্যবহার করেন তবে তা করতে পারেন।
১৩. আপনি যে কম্পিউটার কিংবা মোবইল সেট কখনও ব্যবহার করেননি এমন কোনো ডিভাইস হতে কেউ লগ ইন করতে তার নোটিফিকেশন পাবার অপশনটি দিয়ে রাখুন।
১৪. আপনার প্রোফাইলটি সার্চ ইঞ্জিন না খুঁজে পায় সেই অপশনটি বন্ধ করে রাখুন।
১৫. আপনার ফেসবুক সেটিংসে ইমেইল এ্যাড্রেস ব্যবহার করুন।  কারণ এ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে ইমেইল ভূমিকা রাখবে।

১৬. কোনো পরিচিত বা অপরিচিত বন্ধু কোনো লিংক পাঠালে (গেমস কিংবা কোনো অ্যাপসের) তা গ্রহণ করবেন না।

আপনার প্রোফাইলের এ্যাকাউন্ট সেটিংস (Account Settings) এবং প্রাইভেসি (Privacy) সেটিংস থেকে এ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বৃদ্ধি করা যায়। এ্যাকাউন্ট সেটিংস এবং প্রাইভেসি সেটিংসে গিয়ে একটু মনোযোগ দিয়ে অপশনগুলো পড়ুন এবং এ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বৃদ্ধি করুন।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*