Home / প্রযুক্তি / কম্পিউটার / কিভাবে বুঝবেন আপনার কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত?

কিভাবে বুঝবেন আপনার কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত?

বিশ্বে ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যারের যেমন অভাব নেই তেমনি এসবে কোন কম্পিউটার আক্রান্ত হলে তার লক্ষণের অভাব নেই। কোনো কম্পিউটারে একটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে আবার কোনোটিতে একাধিক। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে উইন্ডোজ এক্সপি বেশি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। নিচের লক্ষণগুলো দেখলে বুঝবেন আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাস, ম্যালওয়্যার কিংবা স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে-
১. উইন্ডোজ এক্সপি এর ক্ষেত্রে টাস্ক ম্যানেজার ডিজেবল্ড হয়ে থাকলে বুঝবেন কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত। এটি বুঝার জন্য Ctrl+Alt+Del চাপ দিন কিংবা টাস্ক বারে ডান মাউস বটন ক্লিক করুন। টাস্ক ম্যানেজার উইন্ডোটি না আসলে কিংবা টাস্ক ম্যানেজার অপশনটি যদি ইনঅ্যাক্টিভ থাকে তবে বুঝবেন কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
২. রেজিস্ট্রি এডিটর ডিজেবল্ড হয়ে থাকলে বুঝবেন কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত। এটি বোঝার জন্য স্টার্ট মেনু থেকে রান এ গিয়ে regedit লিখে এন্টার দিন। যদি রেজিস্ট্রির এডিটর উইন্ডো না আসে তাহলে বুঝবেন কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
৩. কমান্ড প্রোম্পট ডিজেবল্ড থাকলে। এটি বোঝার জন্য স্টার্ট মেনু থেকে রান এ গিয়ে cmd লিখে এন্টার দিন। যদি cmd উইন্ডো না আসে তাহলে বুঝবেন কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
৪. স্টার্ট মেনু বারে সার্চ অপশন না থাকলে।
৫. কোনো প্রোগ্রাম চালু নাই কিংবা কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড প্রোগ্রাম চালু না থাকে কিন্তু সিপিইউ ইউজ ৫% এর উপর শো করলে বুঝবেন কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।। এর জন্য Ctrl+Alt+Del চাপ দিয়ে পারফরমেন্স ট্যাব বাটনে চাপ দিন এবং এই উইন্ডোটির একবারে নিচে স্ট্যাটাস বার এ লক্ষ্য করুন। সিপিইউ ইউজ ৫% এর উপর শো করলে বুঝবেন এটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।
৬. কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভ কিংবা পেন ড্রাইভ ডবল ক্লিক করে ওপেন না হলে। কোনো পেনড্রাইভ কম্পিউটারে দেয়া মাত্রই তা সর্টকাট হয়ে যায় এবং ফাইলগুলো হিডেন হয় যায়। তাহলে বুঝবে আপনার কম্পিউটার  ভাইরাসে আক্রান্ত।
৭. কম্পিউটারের ড্রাইভগুলো কিংবা পেন ড্রাইভের উপর ডান মাউস ক্লিক করলে ওপেন অপশনটি দ্বিতীয় স্থানে থাকলে কিংবা প্রথম অপশনটি ভিন্ন ভাষায় দেখালে।
৮. কম্পিউটার যদি হঠাৎ অটোমেটিক শাট ডাউন হয়।
৯. কম্পিউটার যদি থেমে থেমে অটোমেটিক রিস্টার্ট হয়। তবে কম্পিউটার অন্যান্য কারণে যেমনঃ উইন্ডোজের সিস্টেম ফাইল মিসিং হলে, লো ভোল্টেজ থাকলে রিস্টার্ট হতে পারে।
১০. কম্পিউটারে খুব বেশী প্রোগ্রাম ইন্সটল নেই অথচ কম্পিউটার যদি ওপেন এবং সাট ডাউন হতে বেশি সময় নেয় তাহলে বুঝবেন কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত।
১১. কম্পিউটারে কোন প্রোগ্রাম ওপেন করলে, বন্ধ করলে বা অন্য  কোনো কমান্ড দিলে তা এক্সিকিউট হতে সময় নিলে।
১২. ফোল্ডার অপশন না থাকলে বুঝবেন আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত। এটি দেখার জন্য মাই কম্পিউটার ওপেন করে টুলস মেনুতে গিয়ে ফোল্ডাস অপশনটি লক্ষ্য করুন। এটি যদি না থকে তাহলে বুঝবেন এটি ভাইরাসে ডিজেবল্ড করে রেখেছে।
১৩. হিডেন ফাইল্স এন্ড ফোল্ডার অপশনটি না থাকলে কিংবা কাজ না করলে। এটি দেখার জন্য মাই কম্পিউটার ওপেন করে টুলস মেনুতে গিয়ে ফোল্ডাস অপশনে ক্লিক করুন। এবার  ভিউ ট্যাবে ক্লিক করে শো হিডেন ফাইল্স এন্ড ফোল্ডার অপশনটিতে ক্লিক করে ওকে করুন। এই ফাংশনটি কাজ করেছে কিনা তা দেখার জন্য এই অপশনটিতে আবার আসুন। যদি তা পূর্বের মতো do not show hidden files and folders অপশনিটিতে টিক চিহ্ন থাকে তাহলে বুঝবেন এটি ভাইরাসে আক্রান্ত।
১৪. কম্পিউটার ওপেন হওয়ার সময় C:\windows উইন্ডো কিংবা C:\mydocuments উইন্ডোসহ ওপেন হলে।
১৫. তেমন কোন প্রোগ্রাম ইন্সটল নেই কিন্তু সি ড্রাইভ স্পেস যদি পূর্ণ দেখায়।
১৬. অল্পতে কম্পিউটার ঘন ঘন হ্যাঙ্গ হলে।
১৭. কোনো মেসেজ যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট এন্টিভাইরাস/সফটওয়্যার ইন্সটল করতে বলে।
১৮. কোনো ওয়েব সাইটে যেতে গিয়ে অন্য সাইটে চলে গেলে বুঝবেন এটি সাইট ট্রাকারে আক্রান্ত।
১৯. উইন্ডোজ ট্রে নোটিফিকেশন এরিয়াতে কোনো এরোর মেসেজ বার বার দেখালে।
২০. এন্টি ভাইরাস প্রোগ্রাম ইন্সটল হতে না দিলে, এন্টি ভাইরাস কাজ না করলে, ডিজেবল্ড থাকলে কিংবা এন্টিভাইরাসটি নতুন করে রিস্টার্ট করতে না দিলে।
২১. ডেক্সটপে কোনো নতুন আইকন দেখলে, যা আপনি রাখেননি কিংবা ইন্সটলকৃত প্রোগ্রামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
২২. কেউ কোনো ফাইল বা ফোল্ডার হিডেন করেনি অথচ আপনি তা খুঁজে পাচ্ছেন না। আবার ডিস্ক স্পেস ঠিক দেখাচ্ছে।
২৩. কেউ কোনো ফাইল বা ফোল্ডার ডিলিট কিংবা মুভ করেনি অথচ আপনি তা খুঁজে পাচ্ছেন না।
২৪. কম্পিউটার ওপেন হওয়ার সময় লগ ইন অপশন আসে অথচ লগ ইন করলে কম্পিউটার ওপেন হয় না।
২৫. কম্পিউটার ওপেন হয়ে ডেক্সটপ আসে কিন্তু মাউস ও কি বোর্ড  কোনো কাজ করে না।
এছাড়াও উইন্ডোজে অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হলে কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক অবস্থায় ধরে নেয়া যেতে পারে।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*